Showing posts with label সূরা ফাতিহা. Show all posts
Showing posts with label সূরা ফাতিহা. Show all posts

Sunday, 11 May 2014

প্রশ্নঃ এখানে নিয়ামতপ্রাপ্ত কারা ও তাদের কি কি নিআমত দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ কর।মাগদুবী এবং দোলীন দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?

 নিয়ামতপ্রাপ্ত কারা ও তাদের কি কি নিআমত দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ কর।


বায়যাভী(রঃ) এর মত হল এখানে যাদেরর উপর আল্লাহর অনুগ্রহ আসে আর যারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না তারাই প্রকৃতপক্ষে নিআমতপ্রাপ্ত। নিআমত শব্দটি ইনাম থেকে উদ্ভূত যাদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে আর তারাই হল নিআমতপ্রাপ্ত।অন্যদিকে অন্যান্য জীব-জন্তুদের যা দেওয়া হয় তাহল রিযিক। কারা কারা নিআমতপ্রাপ্ত হবে তাদের ব্যাপারে মুফাসসিরীনগণ বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পেশ করে থাকেন। তাদের কিছু কিছু ব্যক্তব্য নিম্নে দেওয়া হলঃ

আল্লামা আলূসী(রঃ) বলেন,

বায়যাভী(রঃ) বলেন, সকল মুমিনগণ হল নিআমতপ্রাপ্ত। যেহেতু তাদের ঈমানের মত দৌলত দান করা হয়েছে তাই তারাই নিআমতপ্রাপ্ত।

কারও মতে, নবী-রাসূলদের বুঝানো হয়েছে।

কারও মতে, মূসা(আঃ) ও ইসা(আঃ) এর সঙ্গীগণ।

কারও মতে, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর সাহাবাগণ।

কারও মতে, রাসূলুল্লাহ(সাঃ), আবূ বকর(রাঃ) ও উমার(রাঃ)।

ইবনে আব্বাস(রাঃ) এর কথা হল এর দ্বারা নবী-রাসূলগণ,ফেরেশ্তাগণ,সত্যবাদীগণ অন্তর্ভূক্ত।

কারণ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনযাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। [নিসাঃ৬৯]

যেসকল নিআমত তাদের দেওয়া হয়েছে

তাদেরকে কি ধরবনের নিআমত দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। সেইসকল বক্তব্যসমূহ নিম্নে পেশ করা হলঃ

১. তাদেরকে অসংখ্য নিআমত দেওয়া হয়েছে যা কখনও গণনা করে শেষ করা যাবে না। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। [ইব্রাহীমঃ৩৪]

২. আল্লাহ তাদেরকে সৌভাগ্যবান করে সৃষ্টি করেছেন।

৩. আল্লাহ পাক যাদের নিআমত দান করেছেন তাদেরকে তিনি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

৪. তারা সঠিকপ্রাপ্ত যা আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নিআমত।

৫. ঈমানের মত নিআমত প্রদান করা হল তাদের প্রতি বিশেষ নিআমত।



 মাগদুবী এবং দোলীন দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?
 

সূরা ফাতিহার শেষ আয়াতে মাগদূবী  এবং দোলীন  এই দুটি শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে আর এই দুটি বিষয় থেকে একজন বান্দা তার স্বীয় প্রভূর কাছে থেকে পানাহা কামনা করছে। মাগদুবী এবং দোলীন দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে এ ব্যাপারে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায় যা হলঃ

১. মাগদুবী হল সেইসকল সম্প্রদায় যাদের উপর আল্লাহর গযব পতিত হয়। তাই এখানে ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে। তাই কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন। [মায়িদাঃ৬৫]

অন্যদিকে দোললীন হল খৃষ্টান সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ পাক কোন গযবে পতিত করেন নাই। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের পথভ্রষ্ট করেছে অন্যদেরকেও করেছে।

২. মাগদুবী হল যারা গুনাহগার।জেনেবুঝে পাপকাজ সম্পাদন করে। যারা আল্লাহর পরিচয় জেনেও জেনে বুঝে পাপকার্য সম্পাদন করে থাকে। অন্যদিলে দোলীন হল তারা যারা অজ্ঞ-মূর্খ তারা হল দললীন।

৩. যারা ঈমান আনার পরেও আমলগত ত্রুটি সাধন করে থাকে তারা হল মাগদুবী। আর যাদের আকীদাগত ত্রুটি আছে অর্থাৎ, ইলম তার দোললীনের অন্তর্ভূক্ত।


৪. মাগদুবী দ্বারা কাফির সম্প্রদায় ও দোললীন দ্বারা মুনাফিক সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্নঃ আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন এর তাফসীর কি?হিদায়াতে কয় স্তর বিশিষ্ট তা আলোচনা কর।


জীবনের প্রত্যেকটি শাখা-প্রশাখায় এবং প্রত্যেকটি বিভাগে চিন্তা,কর্ম ও আচরণে এমন বিধি ব্যাখ্যা আমাদের শিখাও যা নির্ভুল। সেখানে ভুল দেখা, ভুল কাজ করা ও অশুভ পরিণামের কোন সম্ভাবনা নেই। যে পথে চললে আমরা সাফল্য লাভ করতে পারি। কুরআন তিলওয়াতের শুরুতে এই দুআটি আল্লাহর সকলে এই প্রার্থনা করে যাতে করে এই কুরআন অধ্যয়নের দ্বারা সঠিক পথের উপর সে থাকতে পারে। জীবনের অসংখ্য পথের ভিতর থেকে চিন্তা ও কর্মের সরল ও সুস্পষ্ট রাজপথটি দেখানোর জন্যে আবেদন করা হচ্ছে।এ আয়াতের চার ধরনের অর্থ আছে বলে বলা হয়েছে। যা হলঃ

১. আমাকে সহজ-সরল পথ প্রদর্শন করার সুযোগ প্রদান করুন।

২. এই পথের উপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকার সুযোগ প্রদান করুন।

৩. এমন সুযোগ দান করা যার দ্বারা মৃত্যু পর্যন্ত এর উপর অটুট থাকা যায়।

৪. ইলহাম দেওয়া যার মাধ্যমে বান্দা কোন কিছু অনুধাবন করতে পারে।যেমন মূসা(আঃ) এর মা তাকে তার শিসুকে ভাসিয়ে দেয় আল্লাহ থেকে প্রাপ্ত ইলহামের দ্বারা। এটি হতে পারে সালাতুল ইস্তিখারার মাধ্যমে।



হিদায়াতে কয় স্তর বিশিষ্ট  

হিদায়াত চার স্তর বিশিষ্ট হয়। যা হলঃ

১ম স্তর

এটি এমন স্তর যার মাধ্যমে মানুষ তার বাহ্যিক শক্তি তথা ক্ষুধা,ইন্দ্রীয়-তৃপ্তীসহ যাবতীয়  এবং তার বুদ্বিশক্তি, অনুভূতিশক্তি এবং বাহ্যিকশক্তি দিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে থাকে।

২য় অর্থ

সত্য-মিথ্যার পথ পার্থক্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রমাণ স্থাপন। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

আমি তার ভিতর সত্য-মিথ্যা প্রভেদ করেছি। [বালাদঃ১০]

৩য় অর্থ

নবী-রাসূলদের কিতাব নাযিলের মাধ্যমে সকলকে হিদায়াত প্রদান করা। আল্লাহ ইরশাদ করেন,

তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। [জুমআঃ২]

৪র্থ অর্থ

মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করে দেওয়া। এটি ইলহাম ও ওয়াহীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। তা কখনও কখনও স্বপ্নের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এটি হল হিদায়াতের চূড়ান্ত স্তর। এটী কেবলমাত্র নবী-রাসূলগণ অর্জন করে থাকে।


 সিরাত এর উদ্দেশ্য হলঃ


তরীকা, পথ, রাস্তা, পন্থা ইত্যাদি।

সিরাতুল মুস্তাকীমের উদ্দেশ্য

ইমাম বায়যাভী(রঃ) বলেন,

এটা হল সত্য পথে অর্থাৎ আমাদের ইসলামের পথ প্রদর্শন করুন।

ইবন জারীর তাবারী(রঃ) বলেন,

সিরাতুল মুস্তাকীম বলতে এমন পথকে বুঝায় যার কোন বক্রতা নেই।

ইবন কাসীর বলেন,

কিতাবুল্লাহকে বুঝানো হয়েছে।

আলী(রাঃ) বলেন,

কিতাবুল্লাহকে বুঝানো হয়েছে।

দাহাব(রঃ) বলেন,

এটি হল সেই দ্বীনের রাস্তা যাতে কোন জটিলতা নেই।

ইবন মাসউদ(রাঃ) বলেন,

সিরাত দ্বারা ইসলামকে বুঝানো হয়েছে।

ইবনুল হানফীরদের মতে,

এমন দ্বীন যা ছাড়া অন্য কোন দ্বীন আল্লাহ গ্রহণ করবেন না।

ইবন আব্বাস(রাঃ) বলেন,

যে পথে চললে পরে জান্নাত লাভ করা যায় তা হল মুস্তাকিম।

সাহাল ইবন আব্দুল্লাহ বলেন,

সীরাতুল মুস্তাকীমের দ্বারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পথের কথা বলা হয়েছে।

আল্লামা যামাখখাশারী বলেন,

এখানে উদ্দেশ্য হল সত্য পথ তথা মিল্লাতে ইসলামে পথে চলেলে জান্নাত লাভ করা যায়।

আবুল আলীয়া বলেন,

সীরাতুল মুস্তাকীমের অর্থ হল মুহাম্মদ(সাঃ) এবং তার দুই প্রধান প্রধান সাহাবাদের অনুসরণের পথ।

তাফসীরে রুহুল মাআনীতে বলা হয়েছে,

সকল কাজ-কর্মে ইফরাদ ও তাফরীদের মধ্যমনীতি হল সীরাতুল মুস্তাকিম। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য [বাকারাঃ১৪৩]

তিনি আরও বলেন যে, ইসলামের সাহাবীগণ যে পথের উপর আছেন তা হল সীরাতুল মুস্তাকীম। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

তোমরা তাদের মত ঈমান আনয়ণ কর। 

তিনি আরও বলেন এটি হল একমাত্র ইবাদতের রাস্তা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ। [ইয়াসীনঃ৬০]

কারও মতে এর দ্বারা, জান্নাতের পথেকে বুঝানো হয়েছে।

আবার কারও মতে এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর শরীয়াতকে বুঝানো হয়েছে।


কারও মতে ইবাদত হল এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রশ্নঃ আর-রহমান ও আর-রাহীমের শাব্দিক বিশ্লেষণ কর। আর-রহমান ও আর-রাহীমের পার্থক্য কর।

 আর-রহমান ও আর-রাহীমের শাব্দিক বিশ্লেষণ


আল্লাহ পাকের পবিত্র ৯৯টি সিফতের ভিতর রাহমান ও রাহীম অন্যতম। তিনি যে একমাত্র আমাদের নিআমতদাতা আমরা এখান থেক তা উপলব্দ্বি করতে পারি।

রহমান ও রাহীম শব্দদ্বয় রিহম হতে আগত। রিহম অর্থ হল মহিলাদের গর্ভাশয়। এর এখান থেকে রহমত এসেছে। এর অর্থ হল হৃদ্বয়ের কোমলতা যা দয়া ও অনুগ্রহের কামনা করে। মহিলারা যেহেতু গর্ভের সন্তানদের প্রতি করুণা ও দয়া প্রদর্শন করে তাই সেখান থেকে এই অর্থের আবির্ভাব।

আল্লামা বায়যাভী(রঃ) বলেন,

আল্লাহর যেসকল গুণাবলী রয়েছে তার দুটি পর্যায়ে আছে।

যথাঃ প্রাথমিক পর্যায় যা হল অন্তরের কোমলতা,হৃদ্বয়ের দয়ার্দ্রতা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে হল অনুগ্রহ করা, নিআমত দান করা ইত্যাদি আর এখানে শেষোক্ত পর্যায়টি আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইমাম জারীর তাবারী(রাঃ) বলেন,

রাহমানের অর্থ হল সমগ্র সৃষ্টজীবের প্রতি করুণা বর্ষণকারী আর রাহীমের অর্থ হল যিনি মুমিনদের উপর দয়াবর্ষণকারী।

রহীম যে শুধুমাত্র মুমিনদের জন্যে প্রযোজ্য সেই ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

 তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। [আহযাবঃ৪৩]

ইবন আব্বাস(রাঃ) বলেন,

রাহমান ও রাহীম দুটি করুণাবিশিষ্ট শব্দ। একের মধ্যে অন্যের তুলনায় দয়া ও করুণা বেশী আছে।

সকল সাহাবীদের এই অভিমত যে, রাহীমের চেয়ে রাহমানের ব্যপকতা রয়েছে। হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে,

আমি রাহমান। আমি রাহিম হতে সৃষ্টি করেছি আর আমার নাম থেকে রাহিমের নামের সৃষ্টি।

কারও মতে,

রাহমান হল দুনিয়া ও আখিরাতে দয়া প্রদর্শনকারী আর রাহীম হল শুধু আখিরাতের প্রদর্শনকারী।

ইমাম মাওয়ার্দীর মতে এটা আরবী শব্দ নয়।বরং এটি ইবরানী শব্দ। এর সাথে আরবগণ ইতিপুর্বে পরিচিত ছিল না।ইসলামে আবির্ভাবের পর পর তার সাথে সকলে এর সাথে পরিচিত হয়। আল্লাহ বলেন,

তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে, দয়াময় আবার কে? তুমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করলেই কি আমরা সেজদা করব [ফুরকানঃ৬০]







আর-রহমান ও আর-রাহীমের পার্থক্য 


আভিধানিক পার্থক্য

১. রাহীম ও রাহমান উভয় শব্দের মূল ধাতু রিহম। এর অর্থ হল অন্তরের কোমলতা।

২. রাহমান শব্দে রাহীমের তুলনায় বর্ণ অধিক।

৩.   ইমাম মাওয়ার্দীর মতে এটা আরবী শব্দ নয়।বরং এটি ইবরানী শব্দ। এর সাথে আরবগণ ইতিপুর্বে পরিচিত ছিল না।ইসলামে আবির্ভাবের পর পর তার সাথে সকলে এর সাথে পরিচিত হয়। আল্লাহ বলেন,

তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে, দয়াময় আবার কে? তুমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করলেই কি আমরা সেজদা করব [ফুরকানঃ৬০]

অর্থগত পার্থক্য

১. রহমানের তুলনায় রাহীম এর মাঝে অর্থ আধিক্য বিদ্যমান। আল্লামা বায়যাভী(রঃ) অর্থের দিক থেকে দুইভাবে প্রমাণ করেছেন,

১. পরিমাণ বা সংখ্যার দিক থেকে

২. গুণ ও অধিক মর্যাদা দিক থেকে।

১. পরিমাণগত বা সংখ্যার দিক থেকে

 রহমান হল দুনিয়ার অনুগ্রহ আর রাহীম হল আখিরাতের অনুগ্রাহী।কারণ দুনিয়ায় আল্লাহর অনুগ্রাহী কাফির ও মুমিন নির্বিশেষে সকলের জন্যে ব্যাপক।তাই একে রাহমানুদ দুনিয়া বলা হয়। আর আখিরাতে আল্লাহর নিআমত শুধুমাত্র মুমিনদের জন্যে আর তার পরিসর ছোট। তাই একে রাহীমুল আখিরাত বলা হয়।

২. গুণ ও অধিক মর্যাদা দিক থেকে

গূন ও অধিক মর্যাদার দিক থেকে দেখা যায় যে, রাহমান দুনিয়া ও আখিরাতের এবং রাহীম কেবলমাত্র দুনিয়ার জন্যে।কেননা তা আখিরাতের গুণাবলী স্বাভাবিকভাবে অনেক বড় হয়ে থাকে। আর দুনিয়ার নিআমতসমূহ ছোট ছোট হয়ে থাকে। তাই রাহমান বৃহৎ নিয়ামতদানকারী আর রহীম ক্ষুদ্র নিয়ামতদানকারী হওয়াতে রাহমান হল দুনিয়া ও আখিরাত দুই জাহানের জন্যে আর রাহীম হল কেবল দুনিয়ার জন্যে।

অন্যান্য পার্থক্য

১. তাফসীরে ইবন কাসীরে বলা হয়েছে,

রহমান শব্দটি আল্লাওর জন্যে খাস আর রাহীম আম তা আল্লাহ ও তার বান্দার জন্যে ব্যবহার হয়। আর রাহমান হল কেবল দুনিয়ার জন্যে আর রাহীম হল আখিরাতের জন্যে।

২. কেউ কেউ বলেন, মুমিন ও কাফির সকলের প্রতি রাহমান ও মুমিনদের প্রতি রাহীম।

৩. কারো মতে, প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুলকারীকে রাহমান আর তা কবুল না করলে রাহীম।

৪. আল্লামা কুরতুবী(রঃ) বলেন, রাহীম ও রাহমান সমার্থবোধক। যেমন কাদীম ও কাদামানুন একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।


প্রশ্নঃ আলামুন অর্থ কি?




আলামুন আরবী এক বচনবিশিষ্ট শব্দ যার বহুবচন হল আলামীন। আলামুন অর্থ হল পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া আর যা কিছু সবকিছুর অন্তর্ভূক্ত হল আলামুন। যা দেখে আমরা কোনকিছু উপলব্দ্বি করতে পারি। পারতপক্ষে আমরা আল্লাহ পাকের সৃষ্টি জগৎ থেকে তার পরিচয়ের ব্যাপারে সম্যক ধারনা লাভ করতে পারি।  তাই সূরা ফাতিহাতে এই কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্য একটি মতামত হল এই যে, আলামুন দ্বারা জ্বিন,ইনসান ও ফিরিশ্তাগণকে বুঝানো হয়েছে।

৩য় মতটি হল এই যে, আলামুন দ্বারা সমগ্র মানবজাতিকে বুঝানোর মূল উদ্দেশ্য। কারণ মানব সভ্যতাকে জগতসমূহের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কারণ মানবজাতির অস্তিত্বশীল বস্তুর সার নির্যাস।

আল-মাওয়ার্দী বলেন, দুনিয়া এবং দুনিয়ার ভিতর যা কিছু আছে সব কিছুই আলামুনের অন্তর্ভূক্ত।

সর্বশেষ বক্তব্য হল এই যে, দুনিয়া ও আখিরাতের ভিতর যা কিছু আছে সব কিছুই আলামুনের অন্তর্ভূক্ত।



প্রশ্নঃ রব্বুল শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ কর।


ইমাম বায়যাভী(রঃ) বলেন, রব্ব শব্দটির মাসদার হল তারবিয়াতুন। রব্বের অর্থ হল লালন-পালন করা। তারবিয়াতুনের অর্থ হল কোন বস্তুকে ক্রামান্বয়ে পৌছানো। রব্ব শব্দটি মাসদার হওয়া সত্ত্বেও তা মুবালাগা হিসেবে আল্লাহর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। মনিবকে রব্ব বলা হয় কেবল এই কারণে যে তিনি তার দাসের জীবনের সকল কিছুর সংরক্ষণ করেন তাই।সকল কিছু যেমন এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করতে কোন কিছুর সাহায্য নেওয়া হয় নাই। ঠিক তেমনিভাবে, কোন কিছুর লালন পালন করতে তার কোন সমস্যা হয় না। যদি তিনি কোনকিছু লালন-পালন করার দায়িত্ব গ্রহণ না করতেন তাহলে কোনকিছু এই পৃথিবীতে স্থায়ী হত না।

এই শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় যা হলঃ

১। ইসমে ফায়িল যা লালন-পালন করী হিসেবে।

২। এটি হল কর্তাবাচক ক্রিয়া। যা হল লালন-পালনকারী। তা কেবল আল্লাহর জন্যে খাস।

৩। তাফসীরে মাওয়ার্দীতে তার চারটি অর্থ করা হয়েছে যা হলঃ

১। মালিক, দুই জাহান(অর্থাৎ, ইহকাল ও পরকালের মালিক)

২। সায়্যিদ যার অর্থ হল নেতা। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,ইউসুফ(আঃ) তার এক কারাগারের সংগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে কারাগারের সঙ্গীরা! তোমাদের একজন আপন প্রভুকে মদ্যপান করাবে। [ইউসুফঃ৪১]

৩। পরিচালনাকারী

৪। লালিত-পালিত অর্থে। যেমন কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে।    [নিসাঃ২৩]


প্রশ্নঃ আলহামদুলিল্লাহের তাফসীর কর।



সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর তায়ালার জন্যই খাস। তিনি একমাত্র কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য। তিনি সকলকে কেবল দান করে যান।তিনি আমাদেরকে এতবেশী দান করেছেন যে, সেই ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা কখনও তার নিআমত গণনা করে শেষ করতে পারবে না। আমরা যেন তার আদেশ নিষেধ মেনে চলতে পারি তার জন্যে তিনি আমাদেরকে শারীরিক সুস্থতা দান করেছেন। তিনি আমাদেরকে এই পৃথিবীতে এত নিআমত দান করার পরেও আমরা আখিরাতে কিভাবে চিরস্থায়ী যিন্দেগীর জন্যে জান্নাত লাভ করতে পারবে সেজন্যে তিনি আমাদের বেশকিছু নিয়ম-কানূন শিখিয়ে দিয়েছেন। তাই তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ। এক কথায় কেবল তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।


প্রশ্নঃ হামদ,মাদ্হ ও শুকরের বিশ্লেষণ কর।



হামদ, মাদ্হ ও শুকর শব্দের অর্থ হল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যদিও শব্দত্রয়ের ভিতর কিছুটা সুক্ষ্ণ পার্থক্য রয়েছে। এই শব্দগুলোর পরিচয় নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

শাব্দিক বিশ্লেষণ

হামদ হল বাবে সামিআর মাসদার। যার অর্থ হল উত্তম কাজ ও বিষয়ের প্রশংসা।

শুকর শব্দটি বাবে নাসার এর মাসদার যার অর্থ হল কারো অনুগ্রহের পরিবর্তে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

মাদহ  বাবে ফাতহুনের মাসদার। যার অর্থ হল প্রশংসা।

পারিভাষিক পার্থক্য

হামদ হল সেই অবস্থায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নাম যার দ্বারা নিআমত পাওয়া হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তার প্রশংসা করা হয়।

অনুগ্রহের মাধ্যমে শরীরের অংগ-প্রতংগ, মুখ ও অন্তরের মাধ্যমে যে প্রশংসা করা হয় তাহল শুকর।

আর মাদ্হ হল এমন ধরনের প্রশংসা যার দ্বারা কোন ব্যক্তির গুণের প্রশংসা হয়ে থাকে।

প্রকাশের পার্থক্য

হামদ ইচ্ছাকৃতভাবে সৌন্দর্যের প্রশংসা যবান দিয়ে করা হয়।

আর শুকর আর মাদ ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত দুইভাবেই হতে পার সৌন্দর্য, শক্তি ও বীরত্বের দ্বারা।

হামদ ও শুকরের পার্থক্য

কোন ক্ষেত্র হামদ শুকরের তুলনায় ব্যপক আবার কোথাও শুকরের তুলনায় হামদ অত্যন্ত ব্যপক। হামদ মূলত নিআমত পাওয়া অবস্থায় হোক বা না হোক উভয় অবস্থার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। আর শুকর শুধুমাত্র অনুগ্রহের সাথে সম্পর্কিত। তাহলে আমরা সেক্ষেত্রে লক্ষ্য করছি হামদ হল আম আর শুকর হল খাস।

কিন্তু হামদ আবার প্রয়োগ ক্ষেত্রে খাস আর শুকর আম। কারণ হামদে কেবল ভাষার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় আর শুকরে কাজ, বিশ্বাস ও যবান তিনভাবেই করা যায়। তাই এখানে শুকর হল আম এবং তার ব্যপকতা বেশি।

হামদ ও মাদ্হ  ভিতর পার্থক্য

ইবনুল খাতীব বলেন হামদ ও মাদের ভিতর চারটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যা হলঃ

১। মাদ্হ  জীবিত ও মৃত উভয়ের জন্যে প্রযোজ্য আর হামদ কেবল জীবিতদের জন্যে।

২। মাদ্হ ইহাসানের পূর্বে ও পরে প্রযোজ্য।আর হাম কেবল ইহসানের পরে প্রযোজ্য।

৩। মাদ্হ কখনও নিষিদ্ব আর হামদ কখন নির্দেশিত তা কখনও নিষিদ্ব হতে পারে না।

দলীল

মাদ্হ যে নিষিদ্ব সে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ইরশাদ করেন,

তোমরা প্রশংসাকারীর মুখে মাটি ছুড়ে মার।

অপরদিকে হামদের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে যে,

যে মানুষের প্রশংসা করে না সে আল্লাহরও প্রশংসা করে না।

৪। হামদ নির্দিষ্ঠ গুণাবলীর বিপরীতে হয় আর মাদ ব্যপক হয়। তা অনির্দিষ্ট গুণাবলীর জন্যে।


প্রশ্নঃ সূরা ফাতিহার নামকরণ এবং তার অন্যান্য নামের ব্যাপারে যা জান লিখ।



ইসলামী শরীয়াতে প্রত্যেকটি বিধানের পিছনে কোন না কোন  রহস্য বিরাজমান থাকে। তেমনিভাবে সূরা ফাতিহাকে নামকরণ এর অন্যান্য নামের ব্যাপারে বেশকিছু হিকমত রয়েছে। তাফসীরে বায়যাভীর আলোকে তার ব্যাখ্যা নিম্নে প্রদান করা হলঃ

১। সূরা ফাতিহা

ফাতিহা শব্দের অর্থ হল ভূমিকা বা প্রারম্ভ। একে কেন সূরা ফাতিহা বলা হয় এর পিছনে তিনটি কারণ রয়েছে যা হলঃ

১। মাসহাফে উসমানীতে ধারাবাহিক বর্ণনায় এ সূরাটিকে সর্বপ্রথম উল্লেখ করা হয়েছে।

২। এই সূরাটি সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে।

৩। লাওহে মাহফুযে এ সূরাটি সর্বপ্রথম লিখা হয় বলে এর নামকরণ হয় সূরা ফাতিহা। আল্লামা বায়যাভী বলেছেন,

এই সূরাটিকে ফাতিহাতুল কিতাব করার কারণ হল এই যে, এটি মাসহাফের শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে তাই এর নাম হল সূরা ফাতিহা।

২।উম্মুল কুরআন

কুরআনে মূলত প্রায় চারটি উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কারণে আয়াতসমূহ নাযিল হয়ে থাকে যা হলঃ আহকাম বিষয়ক, আকীদা বিষয়ক, জাগতিক বিষয় এবং পারলৌকিক বিষয়। আর এই চারটি বিষয় মোটামুটিভাবে সূরা ফাতিহার ভিতর সারসংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে বলে একে উম্মুল কুরআন বা কুরআনের জননী বলা হয়েছে।

আরেকটি মতামত হল এই যে, এই কুরআনের সকল মূলনীতিসমূহ আর ঈমান ও নেক আমলের সকল বিষয়কে এখানে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে বলে একে উম্মুল কুরআন বলা হয়েছে।

৩। সাবাইল মাসালী

মাসানী অর্থ হল পুনর্ল্লেখ। আর এর আয়াত সংখ্যা হল সাত। যেহেতু এই সাতটি আয়াত বারংবার তিলওয়াত করতে হয় তার একে সাবাইল মাসালী বলা হয়।

আল্লামা বাগভী(রঃ) উপরোক্ত তিনটি নামের কথা উল্লেখ করেছেন।

৪। সূরা কানয

কানযের অর্থ হল খনি। যেহেত্য খনি থেকে তা অবতীর্ণ তাই একে সূরা কানয বলা হয়।

৫। সূরাতুল কাফিয়া

 এর অর্থ হল যথেষ্ঠ। যেহেতু এই সুরাহটি হিদায়াতের জন্যে যথেষ্ঠ তাই একে সুরাতুল কাফিয়া বলা হয়।

৬। সূরাতুল ওয়াফিয়া

ওয়াফিয়া অর্থ হল পরিপূর্ণতা। যেহেতু এই সূরাহের দ্বারা কুরআনের পরিপূর্ণতা লাভ হয়েছে তাই একে সূরাতুল ওয়াফিয়া বলা হয়।

৭। সূরাতুল দুআ

এই সূরার দ্বারা দুআ প্রার্থনা করা হয় বলে একে সুরাতুল দুআ বলা হয়।

৮। আসাসুল কুরআন

আসাব অর্থ ভিত্তি। এটি কুরআনের ভিত্তি মূল হওয়ার কারণে একে উৎসমূল বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই সুরাটিতে সকল বিষয়বস্তু এবং সর্বশ্রেণীর কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়কে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হয়েছে বলে তাই একে আসাবুল কুরআন বলা হয়েছে।

৯। সূরাতুল হামদ এবং ১০। সুরাতুল শুকর

এই সূরাতে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি করা হয়েছে বলে একে সূরাতুল হামদ বা সূরাতুল শুকুর বলা হয়েছে।

১১। সূরাতুশ শিফা ও ১২। সূরাতুশ শাফিয়া    

শিফা অর্থ হল রোগমুক্তি। যেহেতু এই সূরাহ তিলওয়াতের মাধ্যমে রোগমুক্তি রয়েছে তাই একে সূরাতুশ শিফা বলা হয়। রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেন, সূরাহ ফাতিহা সকল রোগের মুক্তি।

১৩। সূরাতুস সালাত

যেহেতু প্রত্যেক সালাতের প্রত্যেক ওয়াক্তে এটি পড়তে হয় তাই একে সূরাতুস সালাত বলা হয়।

১৪। সূরাতু তালিমীল মাসআলা

এই সূরাতে যেহেতু সালাত,দুআ ও আবেদনের মাসালার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তাই একে সুরাতু তালিমীল মাসআলা বলা হয়েছে।



প্রশ্নঃ আল্লাহ শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ কর।



আল্লাহ শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।তার মধ্যে বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য মতামত হলঃ

১.  আল্লাহ শব্দটি সৃষ্টিকর্তার নামসমূহের ভিতর সবচেয়ে মহত্ত্বর এবং যাবতীয় গুণাবলীর সম্মিলিত রুপ। এ নামটি আল্লাহ ছাড়া আর কারও জন্যে প্রযোজ্য নয়। কারণ আল্লাহ এক এবং তার কোন শরীক নেই। মোট কথা আল্লাহ এমন এক সত্ত্বার নাম যে সত্ত্বা পালনকর্তার সকলে গুণের এক অসাধারণ প্রকাশবাচল।তিনি অদ্বিতীয় ও নজিরবিহীন।

২. আল্লাহ শব্দটির প্রথম রুপ ছিল ইলাহু। ইলাহুর হামযা বাদ দিয়ে আলিফ যুক্ত করা হয়েছে।

৩. লাহইয়া থেকে আল্লাহ শব্দটি এসেছে। এর অর্থ হল উচ্চ বা শ্রেষ্ঠ হওয়া। আল্লাহ তায়ালা সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই তাআর এ মতবাদ দিয়েছেন।

৪. আল্লাহ শব্দটি লাম ওয়া হা হতে এসেছে। এর অর্থ হল গোপন করা বা পর্দার আড়ালে থাকা। আল্লাহ যেহেতু সৃষ্টির আড়ালে থাকেন তাই তার নাম আল্লাহ হয়েছে।

৫. আল্লাহ শব্দটি হামযা লাম হা হতে এসেছে। এর অর্থ হল হতবাক বা হয়রান হয়ে যাওয়া। যেহেতু স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করলে পরে মানুষ হয়রান ও হতবাক হয়ে যাবে তাই এর নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহ।


৬. আল্লাহ শব্দটি ওয়ালাহুন হতে এসেছে। এখানে ওয়াকে বদলিয়ে আল্লাহু করা হয়েছে। এখানে এর অর্থ হল নিজেকে আত্মসমর্পণ করা এবং আশ্রয় গ্রহণ করা।

প্রশ্নঃ বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম কি সূরা ফাতিহার অংশ



সকল সাহাবাগণ বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম দিয়ে কুরআন তিলওয়াত করা শুরু করেছে। বিসমিল্লাহ সূরা নমলের একটি আয়াত এই ব্যাপারে সকলে একমত পোষণ করেছে।এখন এটি সকল পৃথক সূরার শুরুর আয়াত নাকি প্রত্যেক সূরার অংশবিশেষ নাকি কেবল সূরা ফাতিহার আয়াত এ ব্যাপারে উলামা-কিরামদের ভিতর মতভেদ রয়েছে। এই মতামতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলঃ

১. এটি সূরা ফাতিহার অংশ।এটি কোন পরিপূর্ণ আয়াত নয় তা কেবল আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীনের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

২. এটি একটি আলাদা আয়াত। সকল সূরার ভিতর পার্থক্য করার জন্যে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।

৩. এটি প্রত্যেক সূরার প্রথম আয়াতের অংশ এবং একটি পরিপূর্ণ আয়াত নয়।

৪. সূরা ফাতিহার আয়াত এবং অন্যান্য সূরার ক্ষেত্রে আয়াতের অংশ।

৫. সূরা ফাতিহার অংশ এবং অন্যান্য সূরার পরিপূর্ণ আয়াত।

৬. অনেকের মতে এটি সূরা ফাতিহার একটি স্বতন্ত্র আয়াত।

৭. ইবন আব্বাস(রাঃ), ইবন কাসীর(রঃ), ইবনুল মুবারক(রঃ) এর মতে এটি শুধু সূরা নমলের আয়াত আর অন্য কোন সূরার আয়াত নয়।

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম সূরা ফাতিহার অংশ নাকি নয় এই ব্যাপারে ইসলামী প্রধান দুই ফিকহীবিদ তথা ইমাম আবূ হানীফা(রঃ) এবং ইমাম শাফিঈ(রঃ) দুই ধরনের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

শাফিঈ(রঃ) এর অভিমত

ইমাম শাফিঈ(রঃ),আব্দুল্লাহ বিন মুবারক,মক্কা ও কূফার আলিমগণ বলেন, এটি সুরাতুল ফাতিহার একটি অংশ।ইমাম শাফিঈ(রঃ) বলেন এটি সূরা বারাআত(তাওবা) ছাড়া সকল সূরার অংশ।

নকলী দলীল

পবিত্র কুরআনের সুরাহ ফাতিহাকে সাত আয়াতবিশিষ্ট বলা হয়েছে। বিসমিল্লাহীর রহমানীর রহীমকে বাদ দিলে তা সাত আয়াত বিশিষ্ট হয় না।

উদাহরণ

আবূ হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ইরশাদ করেন, সূরা ফাতিহা সাত আয়াতবিশিষ্ট এবং তা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম দিয়ে শুরু হয়।

উম্মে সালমা(রাঃ) বিলেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) প্রত্যেক আয়াত শেষ করে থামতেন এবং তা ক্বিরাআত আলাদা আলাদা হত। যেমন বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম পড়ে থামতেন তারপর আলহামদুলিল্লাহী রাব্বিল আলামীন পড়তেন আর থামতেন না।

মুস্তাদরাক হাকীম গ্রন্থের বলা হয়েছে যে, আবূ হুরায়রা(রাঃ) সালাত আদায় করলেন এবং কিরাআতের উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম পড়লেন এবং সালাত শেষ করে বললেন, তোমাদের চেয়ে আমি রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর সালাতের ব্যাপারে বেশী সামাঞ্জস্য রাখি।

সহীহ বুখারীতে রয়েছে,আনাস(রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর ক্বিরাআত কেমন ছিল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) প্রত্যেক খাড়া শব্দকে লম্বা করে পড়েছেন এবং বিসমিল্লাহিরকে খাড়া করে পড়েছেন এবং রাহমান ও রাহীমে মাদ্দ করেছেন।

ইবন আব্বাস(রাঃ) বলেন,

রাসূলুল্লাহ(সাঃ) সালাতের সময় ক্বিরাত উচ্চস্বরে পড়তেন তেমনিভাবে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম পাঠ করতেন।

আনাস(রাঃ) বর্ণনা করেন,

মুয়াবিয়া(রাঃ) মদীনায় সালাত আদায় করলেন এবগ বিসমিল্লাহ পড়লেন না। সেসময় সকল মুজাজির উপস্থিত ছিলে তারা তাতে আপত্তি প্রকাশ করেন তাই তিনি পুনপ্রায় সালাত আদায় করলেন এবং বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে তিলওয়াত করলেন।

আকলী দলীল

সালফে সালেহীন কুরআনের প্রত্যেকটি বিষয়কে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। যদি বিসমিল্লাহ কুরআনের অংশ নাই হত তাহলে তারা তা রাখতেন না। যেমন আমীনকে রাখেন নাই। তাই একে এড়িয়ে চলার কোন অবকাশ নেই।

মালিকীদের অভিমত

ইমাম মালিক, ইমাম আওযাই,মদীনা এবং বসরার অনেক কারী ও ফকীহদের মতে এটি সূরা ফাতিহার অংশ নয়।এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত।

হানাফীদের অভিমত

ইমাম আবূ হানীফা(রঃ) এই ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে কিছুই বলেন নাই। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ(রঃ) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কুরআনের উভয় পাশের মলাটের ভিতরে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর কালাম। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাহলে বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহিম কেন ধীরে তিলওয়াত করা হয়? তখন তিনি বলে একটি স্বতন্ত্র আয়াত আর এটি দুই সূরা ব্যবধান সৃষ্টির জন্যে নাযিল হয়েছে। আর এটি মূলত আবূ হানীফা(রঃ) এর অভিমত। তাই বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহিম সূরা ফাতিহার অংশ নয়।

দলীল

আনাস(রাঃ) হতে বর্ণিত, কোন সূরা স্পষ্টভাবে বুঝা যেত না যদি সূরাহ ফাতিহা নাযিল না হত।

আয়শা(রাঃ) বলেন,

রাসূলুল্লাহ(সাঃ) সালাতকে তাকবীর ও  কিরাআতকে আলহামদুলিল্লাহি রব্বুল আলামীন দিয়ে শুরু করতেন।

আনাস ইবন মালিক(রাঃ) বলেন,

আমি আবূ বকর(রাঃ), উমার(রাঃ) ও উসমান(রাঃ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তারা সবাই আলহামদুলিল্লাহি রব্বুল আলামীন দ্বারা আরম্ভ করতেন। [বুখারী ও মুসলিম] 

সহীহ মুসলিমে আছে,

রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন না সালাতের শুরতেও না পরেও না।

তাহলে উপরোক্ত দলীল দ্বারা এই বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহিম সূরা ফাতিহার অংশ নয়

বিরুদ্ববাদের দলীল

ইমাম শাফিঈ(রঃ) প্রথমে আবূ হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত যেই হাদীসটি উদ্বৃত করেছেন, সেখানে মূলত বিসমিল্লাহকে বাদ দিলে তা সাত আয়াত বিশিষ্ট হয়।

অন্যদিকে উম্মে সালমা(রাঃ) এর বর্ণনা হতে যা পাওয়া যায় তাতে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীমের বরকতকে তুলে ধরেছেন।


আবূ হুরায়রা(রাঃ) বর্ণিত হাদীসদ্বয় পরম্পরা বিরোধী। 

প্রশ্নঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীমের শাব্দিক ব্যাখ্যা কর।

প্রশ্নঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীমের শাব্দিক ব্যাখ্যা কর।

বিসমিল্লাহ তিনটি অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত যা হল বা, ইসম এবং আল্লাহ। এখানে বা দিয়ে বিভিন্ন অর্থ বুঝানো হয়ে থাকে। তার ভিতর অকাট্য দলীল হল সংযোগ।অর্থাৎ এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সংযোগ ঘটানো।


২য় অর্থে ইস্তিনায়াত যার অর্থ হল কোন বস্তুর সাহায্য নেওয়া।

৩য় অর্থে কোন কিছুর বরকত লাভের জন্যে বা শব্দের ব্যবহার।

ইসম শব্দের তাফসীর অত্যন্ত ব্যপক। এর দ্বারা মূলত নামকে বুঝানো হয়েছে।

আল্লাহ শব্দটি হল সৃষ্টিকর্তার যত নাম রয়েছে তার ভিতর সবচেয়ে বেশী মহত্ত্বের অধিকারী। তার সকল গুণাবলীর সমষ্টিরুপ হল এই শব্দটি। এই শব্দটি এক বচনবিশিষ্ট। এর কোন দ্বিবচন ক বহুবচন নেই। কারণ আল্লাহর সত্ত্বা একক ও অদ্বীতিয়। তার কোন শরীক নেই। তার সকল গুণসমূহ এক অসাধারণ প্রকাশবাচক।তিনি একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য এবং তিনি নজীরবিহীন। এরজন্যে এই বিসমিল্লাহ তে তিনটি বিষয়ে আল্লাহর সাথে সংক্লিষ্ট যা হল তার নামের সাথে, তার নামের সাহায্যের সাথে এবং তার নামের বরকতে। রহমান ও রহীম হল আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম।এখানে রহমান হল সাধারণ ও ব্যপক দয়া আর রহীম হল পরিপূর্ণ ও বিশেষ রহমত। রহমানের জন্যে  তা সারা বিশ্ববাসী এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভবিষৎ এ যা সৃষ্টী হবে তার জন্যে প্রযোজ্য। এই রহমত সকলের জন্যে সাধারণভাবে প্রযোজ্য। এটি কেবল আল্লাহর জন্যে খাস। আর অন্যদিকে রহীম এমন একটি গুণ যা এক ধরনের বিশেষ রহমত আর তা সকলের জন্যে নয় বরং তা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংক্লিষ্ট। এই ধরনের রহমত অন্য কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।


৩৮ তম বিসিএস এর রেজাল্ট

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক এ কথা নিশ্চিত করেন। ...